দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়ম ফাঁসকারী ‘ফুটবল লিকস’-এর প্রতিষ্ঠাতা পর্তুগিজ হ্যাকার রুই পিন্তো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা প্রত্যাহার করায় জীবন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। নতুন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় এবং জীবন বাঁচাতে তিনি ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ৩ মিলিয়ন ইউরো তহবিলের আবেদন করেছেন।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত কিন্তু ফুটবল মাঠে নয়। এর শুরুটা হয়েছিল হার্ডডিস্কে, হয়তো লুকিয়ে রাখা কিছু ফোল্ডারে। সেখানেই ছিল এমন সব নথি, যেগুলো এখন আর্থিকভাবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাবকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ক্লাবটার নাম ম্যানচেস্টার সিটি। আর সেই লুকিয়ে রাখা ফোল্ডার খুঁজে বের করে যিনি নথিগুলো ফাঁস করেছেন, তাঁর নাম রুই পিন্তো।
পর্তুগিজ এই হ্যাকার, অ্যাকটিভিস্ট এবং হুইসেলব্লোয়ারের ফাঁস করা তথ্যই প্রিমিয়ার লিগকে বাধ্য করেছিল ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্তে নামতে। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি, কর ফাঁকি এবং কালোটাকা সাদা করার গোপন নথি প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন পিন্তো।
বিভিন্ন ফুটবল ক্লাব, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের গোপন নথিপত্র এবং ই–মেইল হ্যাক করে পিন্তো সেগুলো প্রকাশ করতে শুরু করেন ২০১৫ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ফুটবল লিকস’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। তবে অবৈধভাবে তথ্য চুরি, হ্যাকিং এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পর্তুগালে প্রত্যর্পণ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তবে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা এবং লাখ লাখ নথিতে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিনিময়ে ২০২০ সালের আগস্ট থেকে পিন্তো সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির অধীনে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন। তবে সম্প্রতি পর্তুগিজ পুলিশ দাবি করেছে যে তাঁর জীবনের ঝুঁকি এখন বেশ কম। এই কারণ দেখিয়ে ১০ অক্টোবর থেকে তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সুরক্ষা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের পর পিন্তো এবং তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে তিনি ক্রমাগত মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন এবং তাঁর জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে। গত শুক্রবার থেকে অনলাইনে একটি ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য পিন্তোর নতুন জীবন গড়ার জন্য অর্থ জোগাড় করা। পর্তুগাল সরকারের তরফ থেকে কোনো আর্থিক ও নিরাপত্তা সহায়তা না পাওয়ায় পিন্তো যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসার চেষ্টা করছেন। ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে চলমান মামলায় ব্রিটিশ তদন্তকারীদের অতিরিক্ত গোপন নথি দিয়ে সহযোগিতা করার বিনিময়ে তিনি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন।
পিন্তোর ফাঁস করা নথির ভিত্তিতেই ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছিল প্রিমিয়ার লিগ। দীর্ঘদিন চলা এই মামলার সম্প্রতি রায় হয়েছে। একটি স্বাধীন কমিশন সিটিকে ১০০টির বেশি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে ‘ভুয়া’ চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৯০ কোটি পাউন্ড আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর তথ্য। তবে সিটি এরই মধ্যে আপিল করেছে।
এই মামলার সঙ্গে জড়িত নথি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পিন্তোর জানাশোনা ব্যাপক। এমনকি এমন কিছু নথিও তাঁর কাছে থাকতে পারে, যা তদন্তে বাদ পড়ে গেছে। তাই অন্য কোনো দেশে সুরক্ষিত সাক্ষী হিসেবে থেকে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করে যেতে আগ্রহী পিন্তো। এর আগে ফ্রান্স, জার্মানি ও বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও এভাবে কাজ করেছেন পিন্তো। সেই তালিকায় যুক্তরাজ্যও যোগ হতে পারে।
তবে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সে ক্ষেত্রে পিন্তোর সম্ভাব্য ভূমিকা শুধু ম্যানচেস্টার সিটি ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ‘ফুটবল লিকস’ ও ‘লুয়ান্ডা লিকসের’ অংশ হিসেবে তিনি যে বিপুল পরিমাণ নথি হ্যাক করেছিলেন, এই নথিগুলো এখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভাগাভাগি করা সম্ভব, যুক্তরাজ্যও যার অংশ হতে পারে।
এখন পিন্তো অপেক্ষায় আছেন, সামনে তাঁর জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা জানার। তাঁর আইনজীবীরা সুরক্ষা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এটি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ শামিল। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন কীভাবে করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো জবাব পাননি।
পিন্তো নিজেও পর্তুগাল ছেড়ে গোপন কোনো স্থানে চলে যেতে চান। এরই মধ্যে ক্রাউডফান্ডিং থেকে ১৯ হাজার ইউরোর বেশি অর্থ উঠেছে।
কে